ধ্বনি পরিবর্তন কাকে বলে, কত প্রকার উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা

ধ্বনি পরিবর্তন কাকে বলে, ধ্বনি পরিবর্তন কত প্রকার ও কি উদাহরণ সহ ব্যাখ্যা, Dhoni Poriborton Koto Prokar প্রশ্ন ও উত্তর For বিসিএস, BCS & Bank Job.

ধ্বনি পরিবর্তন কাকে বলে

একটি ভাষায় কথা বলার সময় বিভিন্ন শব্দ পাশাপাশি উচ্চারণকালে, একটি শব্দের ধ্বনির প্রভাবে অন্য আরেকটি শব্দের উচ্চারণের পরিবর্ধন,সংযোজন, বিয়োজন বা কোনেরূপ বিকৃতি ঘটে তখন তাকে ধ্বনি পরিবর্তন বলে। যেমন: পর্তুগিজ শব্দ ‘আনানস’ বাংলায় উচ্চারনের সময় ‘আনারস’ হয়েছে। এটি একটি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

ধ্বনি পরিবর্তন কত প্রকার:

বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তন প্রধানত ৩ প্রকার-

১) ধ্বন্যাগম 
২) ধ্বনিলোপ  ও
৩) ধ্বনি রূপান্তর।

নিম্নোক্ত চিত্রে দেখানো হলো:

ধ্বনি পরিবর্তন

ধ্বনি পরিবর্তন (1. ধ্বন্যাগম)

১) ধ্বন্যাগম:কথা বলার সময় শব্দের শুরুতে, মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে ধ্বন্যাগম বা ধ্বনির আগমন বোঝায়। ধ্বন্যাগম আবার কয়েকটি ভাগে বিভক্ত।

যথা: আদি স্বরাগম, মধ্য স্বরাগম,  অন্ত্যস্বরাগম, অপিনিহিতি ও অসমীকরণ।

আদি স্বরাগম (Prothesis) : উচ্চারণের সুবিধার্থে বা কথা বলার সময় বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে ( অর্থাৎ শব্দের শুরুতে)  স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম।

যেমন:  স্কুল> ইস্কুল , স্ত্রী> ইস্ত্রী , স্নান> সিনান , স্পর্ধা> আস্পর্ধা , স্টেশন> ইস্টিশন  ইত্যাদি।

মধ্য স্বরাগম ( Anaptyxis) :  কথা বলার সময় যেকোনো শব্দের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। সাধারণত এসকল শব্দ সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনি হয়ে থাকে। অর্থাৎ সহজ ভাষায়, সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে মধ্য স্বরাগম বলে।

যেমন: ধর্ম> ধরম, রত্ন> রতন, স্বপ্ন> স্বপন, হর্ষ> হরষ, প্রীতি> পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম> ফিলিম, গ্রাম> গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ> সেরেফ প্রভৃতি।

অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis) :  কথা বলার সময় শব্দের শেষে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে অন্ত্যস্বরাগম বলে।

যেমন: দিশ> দিশা, সত্য> সত্যি, বেঞ্চ> বেঞ্চি, পোখত> পোক্ত,  ইত্যাদি।

[ N:B: মনে রাখার কৌশল : আদি স্বরাগমে শব্দের শুরুতে একটি স্বরধ্বনি যোগ হয়, মধ্য স্বরাগমে মাঝখানে স্বরধ্বনি যোগ হয় এবং অন্ত্যস্বরাগমে শেষে স্বরধ্বনি যোগ হয়। ]

অপিনিহিতি (Apenthesis) : কথা বলার সময় শব্দের পরের ‘ই’ কার বা ‘উ’ কার আগে উচ্চারিত হলে, এরূপ ধ্বনি পরিবর্তনকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন: জালিয়া> জাইল্যা, সাধু> সাউধ, আশু> আউশ, আজি> আইজ, রাতি> রাইত, ইত্যাদি।

অসমীকরণ (Dissimilation) : কথা বলার সময় একটি শব্দের মধ্যে পরপর একই স্বরধ্বনি থাকলে, একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করতে ও শব্দের মাধুর্য বৃদ্ধি করতে সেই শব্দদিত্বের মাঝখানে আারেকটি স্বরধ্বনি যোগ করা হয়। একেই অসমীকরণ বলে।

যেমন: ঝন+ঝন = ঝনাঝন, ধপ+ধপ = ধপাধপ, টপ+টপ = টপাটপ, প্রভৃতি।

ধ্বনি পরিবর্তন (2. ধ্বনিলোপ বা ধ্বনির বিয়োজন)

২) ধ্বনিলোপ বা ধ্বনির বিয়োজন:  কথা বলার সময় স্বাভাবিকভাবে বা উচ্চারণের সুবিধার্থে শব্দের শুরুতে, মাঝে বা অন্তের কোনো ধ্বনি বিলীন হয়ে গেলে তাকে ধ্বনিলোপ বলে।

যথা: সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ বা ধ্বনিলোপ, ব্যঞ্জনচ্যুতি ও অন্তর্হতি।

সম্প্রকর্ষ/ স্বরলোপ/ ধ্বনিলোপ : অনেক সময় দ্রুত কথা বলায় সময় শব্দের উচ্চারণের সময়, শব্দের শুরুতে, মাঝের বা শেষের স্বরধ্বনি লোপ পায় তখন তাকে সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ বলে। স্বরলোপ হলো স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া। লোপ অনুসারে এই স্বরলোপ আাবার তিন প্রকার।

আদিস্বরলোপ (Aphesis) : শব্দের উচ্চারণকালে, শব্দের শুরুতে বা প্রথমদিকের স্বরধ্বনি বিলীন হয়ে যাওয়াকে আদিস্বরলোপ বলে। এটি আদিস্বরাগমের বিপরীত।

যেমন : উদ্ধার >উধার >ধার, অলাবু >লাবু >লাউ, ইত্যাদি।

মধ্যস্বরলোপ (Syncope) : দ্রুত শব্দ উচ্চারণের জন্য শব্দের মাঝের স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বরলোপ বলে। এটি মধ্য স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

যেমন : অগুরু >অগ্রু, গামোছা >গামছা, সুবর্ণ > স্বর্ণ, ইত্যাদি।

অন্ত্যস্বরলোপ (Apocope) : কথা বলার সময় কোনে শব্দের শেষের বা অন্তিম স্বরলোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বরলোপ বলে। এটি অন্তস্বরাগমের বিপরীত।

যেমন : আজি >আজ, আাশা >আশ, চারি >চার।

ব্যঞ্জনচ্যুতি :  কোনে শব্দের পাশাপাশি একই উচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে, তার মধ্যে একটি লোপ পায় ( ভাষার ধ্বনিগত মাধুর্য বজায় রাখতে),  এ ধরনের ধ্বনিলোপকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বলে।

যেমন : বড় দাদ > বড়দা, বউদিদি > বউদি, প্রভৃতি।

অন্তর্হতি : পদের মধ্যকার কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।

যেমন: ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা,  প্রভৃতি।

ধ্বনি পরিবর্তন (3. ধ্বনি রূপান্তর)

৩) ধ্বনি রূপান্তর :  বাক্যস্থিত শব্দগুলোর মধ্যে, উচ্চারণকালে বিভিন্ন কারন বশত কোনো শব্দের একটি ধ্বনির প্রভাবে অন্য আরেকটি ধ্বনির পরিবর্তন বা রূপান্তর ঘটলে তাকে ধ্বনি রূপান্তর বলা হয়। ধ্বনি রূপান্তর অনেক ধরনের হয়ে থাকে।

যথা: স্বরসঙ্গতি, ধ্বনি বিপর্যয়, সমীভবন, বিষমীভবন,  ব্যঞ্জনদ্বিত্ব, ব্যঞ্জন বিকৃতি, অভিশ্রুতি,  ক্ষীনয়াণ ও পীণায়ন।

স্বরসঙ্গতি (Vowel Harmony) :   একটি স্বরের প্রভাবে অন্য আরেকটি স্বরের পরিবর্তিত হওয়াকে স্বরসঙ্গতি বলে। স্বরসঙ্গতিকে আাবার চার ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা: প্রগত স্বরসঙ্গতি, পরাগত স্বরসঙ্গতি, মধ্যগত ও অন্যান্য।

প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive) : প্রথম স্বর অনুযায়ী শেষের স্বর বা অন্ত্যস্বর পরিবর্তন হওয়াকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলে।

যেমন :  শিকা >শিকে, ইচ্ছা >ইচ্ছে, তুলা >তুলো, মুলা >মুলো, মিঠা >মিঠে ইত্যাদি।

পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive) : শেষের স্বরের প্রভাবে প্রথম স্বরের পরিবর্তিত হওয়াকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলে।

যেমন : দেশি > দিশি, আখো >আখুয়া >এখো,  ইত্যাদি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি (Mutual) : প্রথম স্বরধ্বনি ও শেষের স্বরধ্বনির কারনে মাঝের বা মধ্যবর্তী স্বরের পরিবর্তনকে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি বলে।

যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

অন্যান্য স্বরসঙ্গতি (Reciprocal) :  অন্য কোনো স্বরের জন্য শব্দের পরিবর্তনকে বোঝায়। যেমন : মুজা > মুজো।

ধ্বনি বিপর্যয় / বর্ণ বিপর্যয় :   কথা বলার সময় বাক্যস্থিত শব্দের মধ্যকার ধ্বনি স্থান পরিবর্তন করলে, অর্থাৎ একটি শব্দের পূর্বধ্বনি, পরবর্তী ধ্বনির সাথে পরস্পর স্থান পরিবর্তন করলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্যয় বলে।

যেমন : লাফ >ফাল, রিক্সা >রিশকা, বাক্স > বাসক, পিশাচ >পিচাশ, ইত্যাদি।

সমীভবন (Assimilation) :  একটি শব্দের মধ্যকার দুটি ভিন্ন রকম ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে সামান্য সমান রূপ ধারণ করলে তাকে সমীভবন বলে।  সমীভবন আবার তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা: প্রগত, পরাগত ও মধ্যগত।

প্রগত সমীভবন : যখন শুরুর ধ্বনির (পূর্ব ধ্বনির) প্রভাবে পরের ধ্বনি পরিবর্তন হয় তখন তাকে প্রগত সমীভবন বলে। যেমন: পক্ব >পক্ক ( পকক), চক্র >চক্ক, পদ্ম > পদ্দ,  ইত্যাদি।

পরাগত সমীভবন : যখন পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির (আগের ধ্বনির) পরিবর্তন হয়, তখন তাকে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না, তৎ+জন্য = তজ্জন্য, উৎ+মুখ = উন্মুখ, তৎ+হিত = তদ্ধিত, গল্প >গপ্প, রাঁধনা > রান্না,  ইত্যাদি।

মধ্যগত সমীভবন : যখন দুটি ধ্বনি পরস্পরের প্রভাবে উভয়ই পরিবর্তন হয় তখন তাকে মধ্যগত সমীভবন বলে। কিছু স্থানে মধ্যগত সমীভবনকে, অন্যান্য সমীভবন ও বলে।

যেমন: বিদ্যা > বিজ্জা, সত্য > সচ্চ।

বিষমীভবন (Dissimilation) :  একই শব্দে পাশাপাশি একই ধরনের দুইটি বর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন: শরীর >শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনদ্বিত্ব (Long Consonant) :  কিছু কিছু সময় উচ্চারণে জোর দেওয়ার জন্য শব্দের মধ্যকার ব্যঞ্জনধ্বনির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। এরকম ধ্বনি পরিবর্তনকে ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বা দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বলা হয়।

যেমন: সকাল > সক্কাল,  পাকা > পাক্কা,  ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন বিকৃতি : ব্যঞ্জন বিকৃতি বলতে শব্দের মধ্যকার ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তন হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনির ব্যবহারকে বোঝায়। যেমন: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা,  প্রভৃতি।

অভিশ্রুতি (Umlaut) :  বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি তার আগের স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনির পরিবর্তন হলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।  যেমন: করিয়া > কইরিয়া/ কইরা > করে।

ক্ষীণায়ন :  ক্ষীণয়ান বলতে শব্দের মধ্যকার মহাপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণ ধ্বনিতে পরিণত হলে তাকে বোঝায়।

যেমন: কাঠ > কাট, পাঠা > পাটা ইত্যাদি।

পীনায়ন :   শব্দের মাঝের অল্পপ্রাণ ধ্বনি মহাপ্রাণ ধ্বনিতে পরিবর্তিত হলে একে পীনায়ন বলে।

যেমন: পুকুর > পুখুর, কাঁটাল > কাঁঠাল প্রভৃতি।

ধ্বনি পরিবর্তন প্রশ্ন উত্তর

বিগত বছরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় (ধ্বনি পরিবর্তন থেকে) আসা প্রশ্ন ও উত্তর :

১) Prothesis এর বাংলা প্রতিশব্দ কী? উ: আদি স্বরাগম।

২) ধ্বনি পরিবর্তন কত প্রকার? ও কি কি? উ: ৩ প্রকার। ধ্বন্যাগম, ধ্বনিলোপ ও ধ্বনি রূপান্তর।

৩) মধ্য স্বরাগম এর সমার্থক শব্দ কী? উ: বিপ্রকর্ষ ও স্বরভক্তি।

৪) আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে কোন ধরনের স্বরসঙ্গতি হয়? উ: প্রগত স্বরসঙ্গতি।

৫) মিঠা > মিঠে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ?  উ: স্বরসঙ্গতি।

৬) শব্দের মধ্যে দুইটি ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন করলে ( রিক্সা > রিসকা)  কোন ধরনের পরিবর্তন বোঝায়? উ: ধ্বনি বিপর্যয়।

৭) Apenthesis অর্থ কি? উ: অপিনিহিতি।

৮) দুটি সমবর্নের একটি পরিবর্তনকে কি বলে? উ: বিষমীভবন।

৯) পর্তুগিজ ‘আনানস’ বাংলায় ‘আনারস’ এটি কি ধরনের পরিবর্তন?  উ: ধ্বনিতাত্ত্বিক।

১০) ফলাহার > ফলার কোন ধরনের পরিবর্তন?  উ: বর্ণলোপ / অন্তর্হতি।

১১) মহাপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণ ধ্বনির মতো উচ্চারিত হলে, তাকে কি বলে? উ: ক্ষীণায়ন।

১২) তৎ + হিত = তদ্ধিত কোন ধরনের পরিবর্তন?  উ: সমীভবন।

১৩) শরীর> শরীল কোন ধরনের পরিবর্তন?  উ: বর্ণ বিপর্যয় / ধ্বনি বিপর্যয়।

১৪) ‘ধার’ শব্দটি কোন পরিবর্তন প্রক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?  উ: সম্প্রকর্ষ।

১৫) স্নান > সিনান কোন রীতিতে পরিবর্তন হয়েছে? উ: স্বরাগম।

১৬) ‘পেরেক’ শব্দটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন থেকে এসেছে? উ: স্বরভক্তি।

১৭) ফিল্ম> ফিলিম কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?  উ: মধ্য স্বরাগম।

১৮) স্বরলোপ কোনটির বিপরীত প্রক্রিয়া?  উ: স্বরাগম

১৯) পিশাচ > পিচাশ কোন ধরনের পরিবর্তন?  উ: ধ্বনি বিপর্যয়।

২০) জালিয়া > জাইল্যা কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?  উ: অপিনিহিতি।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস (Prachin Bangla Itihas), জনপদ ও উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের সূত্রপাত সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর. BCS Exam, Bank Job Exam, NTRC Exam, Primary Assistant Teacher Exam and NSI Exam.

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস বলতে মূলত হাজার বছর পূর্বের বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান, পরিবেশ, তৎকালীন বসবাসরত অধিবাসী, তাদের ভাষা, জীবন যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত তথ্যগুলোকে বোঝায়। ইতিহাসের এসকল উপাদানগুলোকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১) লিখিত উপাদান : তৎকালীন রচিত গ্রন্থ, সাহিত্য। যেমন : ঐত্যরেয় আরণ্যক, চর্যাপদ, রামচরিতম ইত্যাদি।
২) অলিখিত উপাদান : স্থাপত্য, ভাস্কর্য, মুদ্রা প্রভৃতি।

The author presents some crucial questions and answers for applicants who mainly compete BCS exam. It will also assist applicants who want to sit for Bank Jobs, NTRC, Primary Assistant Teacher, and NSI Exam.

প্রাচীন বাংলার উৎপত্তির ইতিহাস – মোঘল শাসনামলের পূর্ব পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি ও উত্তর

সর্বপ্রথম বঙ্গ শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় কোথায় এবং এর রচয়িতা কে ছিলেন? উ: ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে প্রথম বঙ্গ শব্দ পাওয়া যায়।  এর লেখক ‘ মহিদাস’।

দেশ ও ভাষা হিসেবে বাংলা নামের উৎপত্তির বিষয় সর্বাধিক আলোচিত হয়েছে কোন গ্রন্থে? উ: আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে।

‘আকবরনামা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে? উ: আবুল ফজল। [ আকবরনামা ৩ খন্ডে বিভক্ত। ৩য় খন্ডের নামই হলো : আইন-ই-আকবরী।

কুষাণ সাম্রাজ্যের ইতিহাস পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে? উ: ‘ঐতিহাসিক দলিল’ গ্রন্থে। লেখক – সুমা কিয়েন।

প্রাচীন বাংলার অলিখিত উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম ও উল্লেখযোগ্য হলো : তাম্রশাসন। প্রাচীন বাংলার কয়টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে?  উ: ৭টি।

উপমহাদেশে পরিব্রাজকদের ভ্রমণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

মেগাস্থিনিস কে ছিলেন? উ: মেগাস্থিনিস ছিল গ্রিক রাষ্ট্রদূত। তিনি রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে আসেন।

মেগাস্থিনিস কর্তৃক ভারতবর্ষ ভ্রমণ নিয়ে রচিত গ্রন্থের নাম কি? উ: ইন্ডিকা।

ফা- হিয়েন কে ছিলেন? উ: ফা হিয়েন ছিলেন চীনা পর্যটক। তিনি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।

ভারত ভ্রমণ নিয়ে রচিত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ গ্রন্থের লেখক কে? উ: ফা হিয়েন।

‘সিদ্ধি’ নামক গ্রন্থের রচয়িতা: হিউয়েন সাং।

হিউয়েন সাং কে ছিলেন? উ: চীনা পর্যটক। তিনি রাজা হর্ষবর্ধনের শাসনামলে বাংলায় আসেন।

হিউয়েন সাং কার অধীনে অধ্যয়ন করেন / দীক্ষা পেয়েছিলেন? উ: নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ শীলভদ্রের নিকটে।

"প্রাচীন

ইবনে বতুতা কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন? উ: মরোক্কো’র।

ইবনে বতুতা কত সালে এবং কার শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন? উ: ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে, শাসনকর্তা মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন। মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।

ইবনে বতুতা কখন এবং কার শাসনামলে বাংলায় আসেন? উ: ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতকে (১৩৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ’র শাসনকালে সোনারগাঁও আসেন।

ইবনে বতুতার বাংলায় আসার মূল উদ্দেশ্য কি ছিল? উ: হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ।

ইবনে বতুতার কোন গ্রন্থে তিনি বাংলাকে ‘দোযখপূর্ন নিয়ামত’ বলেছেন? উ: কিতাবুল রেহেলা। এটি আরবি ভাষায় রচিত।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস

অষ্ট্রিক জাতি হতে বাঙালি জাতির মূল অংশের উদ্ভব হয়েছে। অষ্ট্রিক জাতির অন্য কি নামে পরিচিত?  উ: নিষাদ জাতি।

দ্রাবিড় বলতে কাদের বোঝায়? উ: দক্ষিণ ভারতের আদি অধিবাসীদেরকে দ্রাবিড় বলা হয়।

আর্যদের আদিনিবাস কোথায়? উ: ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে। বর্তমান ইরানে।

বাঙালি জাতি প্রধানত কোন দুটি জাতির সংমিশ্রণে গঠিত? উ: অষ্ট্রিক- দ্রাবিড় + আর্য জাতি।

আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করে কত সালে? উ: খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে।

প্রাচীন বাংলার জনপদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

হরিকেল জনপদ (চট্টগ্রাম ও সিলেট) বাংলার কোন দিকে অবস্থিত? উ: পূর্বদিকে।

বঙ্গ জনপদ কোন কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত? উ: বৃহত্তর ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ

বঙ্গ জনপদের প্রতিবেশী জনপদ বলা হয় কোন জনপদকে? উ: সমতট। (কুমিল্লা ও নোয়াখালী)

গঙ্গা – ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা কোন জনপদের সীমানা? উ: সমতট।

সমতট জনপদের রাজধানী কোথায় অবস্থিত ছিল? উ: বড় কামতা। এটি কুমিল্লার ১২ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত।

চন্দ্রদ্বীপ জনপদ ( বরিশাল, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ) এর সীমানা?  উ: বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী এলাকা।

বরেন্দ্র / বরেন্দ্রী জনপদ কোন দুটি নদীর মাঝে অবস্থিত? উ: গঙ্গা ও করোতোয়া।

কোন নদীকে বঙ্গ জনপদের উত্তরদিকের সীমানা ধরা হয়েছে? উ: পদ্মা নদীকে।

প্রাচীন রাঢ় জনপদের বর্তমান নাম কি? উ: পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান।

তাম্রলিপ্তি জনপদের নামকরণ হয় কিসের নামানুসারে? উ: তাম্রলিপ্তি বন্দরের নামানুসারে।

Prachin Bangla Jonopod
"প্রাচীন
প্রাচীন বাংলার সাম্রাজ্য ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্য ও প্রথম রাজা(প্রতিষ্ঠাতা) কে ছিলেন? উ: মৌর্য সাম্রাজ্য। প্রতিষ্ঠাতা : চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।

আলেকজান্ডারের সেনপতিকে পরাজিত করে গ্রিকদেরকে উপমহাদেশ হতে বিতাড়িত করেন কে? উ: রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।

রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন? উ: চাণক্য ( অন্য নাম: কৌটিল্য)।

সম্রাট অশোক কোন বংশের রাজা ছিলো? উ: মৌর্য।

সম্রাট অশোকের কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন? উ: কলিঙ্গের যুদ্ধ। ( প্রায় ১ লক্ষ মানুষ নিহত হয়)। এজন্য তাকে বৌদ্ধ ধর্মের কনস্টানটাইন বলা হয়।

কুষান সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন? উ: কনিষ্ক।

চরক কে ছিলেন? উ: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের পন্ডিত ও রাজা কনিষ্কের চিকিৎসক। চরকের বিখ্যাত আয়ুর্বেদ গ্রন্থ : চরক সংহিতা।

প্রাচীন বাংলার কোন যুগকে স্বর্ণযুগ বলা হয়? উ: গুপ্তযুগকে।

ধ্রুপদী ভাষ্কর্য বলা হয় কোন যুগের ভাস্কর্যগুলোকে? উ: গুপ্তযুগের।

প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন ও গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিল? উ: রাজা সমুদ্রগুপ্ত।

বিক্রমাদিত্য কার উপাধি ছিল? উ: রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।

নবরত্ন বলতে কাদের বোঝায়? উ: রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের দরবারের গুনী ও প্রতিভাবান নয়জনকে নবরত্ন বলে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – কালিদাস, অমরসিংহ, বরাহমিহির প্রমুখ।

মহাকবি কালিদাসের বিখ্যাত রচনাবলি – অভিজ্ঞান শকুন্তল, মালবিকাগ্নিমিত্র, রঘুবংশ ও কুমারসম্ভব, মেঘদূত, ঋতুসংহার প্রভৃতি।

প্রসিদ্ধ সংস্কৃত অভিধান ‘ অমরকোষ’ এর রচয়িতা কে? উ: অমরসিংহ।

বরাহমিহির কে ছিলেন? তার বিখ্যাত রচনা কোনটি? উ: বরাহমিহির ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদ। তার গ্রন্থ – বৃহৎ সংহিতা।

গুপ্ত সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে কাদের আক্রমণে? উ: যাযাবর হুন জাতির আক্রমনে।

তক্ষশিলা বর্তমানে কোথায় অবস্থিত? উ: পাকিস্তানে।

৬ষ্ঠ শতকে গুপ্তবংশের পতনের পরে বাংলায় কতটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব হয়েছিল? উ: ২টি। ( বঙ্গ রাজ্য ও গৌড় রাজ্য)

বঙ্গরাজ্য শাসন করতেন কারা? উ: গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য, সমাচারদেব নামক ৩ জন মহারাজাধিরাজ বঙ্গ রাজ্য শাসন করতেন।

গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিল? উ: রাজা শশাঙ্ক। তিনি প্রথম জীবনে রাজা মহাসেন গুপ্তের একজন ‘মহাসামন্ত’ ছিলেন।

কে বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোকে একত্রিত করে ‘স্বাধীন গৌড় রাজ্য’ গড়ে তোলেন? উ: রাজা শশাঙ্ক। এজন্য রাজা শশাঙ্ককে অবিভক্ত বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা বলা হয়।

পুষ্যভূতি রাজ্য তথা ক্ষুদ্র রাজ্যের অভ্যুদয় ঘটেছিল কোথায়? উ: পাঞ্জাবের পূর্বে।

পুষ্যভূতি বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন? উ: রাজা হর্ষবর্ধন।

রাজা হর্ষবর্ধনের সভাকবি কে ছিলেন ও তার বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কি? উ: বানভট্ট। বানভট্টের রচনা : হর্ষচরিত।

মাৎস্যন্যায় বলতে কোন সময়কালকে বোঝায়? উ: ৭ম – ৮ম শতকের অরাজকতাপূর্ণ সময় তথা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।

মাৎস্যন্যায় সম্পর্কে জানা যায় কোন কোন উৎস থেকে? উ: পাল তাম্রশাসন ও সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘ রামচরিত’ থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।

পালবংশের রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিল? উ: বৌদ্ধ ধর্ম।

পাল রাজাদের পিতৃভূমি বলা হয় কোন জনপদকে? উ: বরেন্দ্র।

পাল বংশ সবচেয়ে দীর্ঘ সময় শাসন করে। পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন? উ: রাজা ধর্মপাল। রাজা ধর্মপালের উপাধি ছিল : ‘বিক্রমশীল’।

বাংলার প্রাচীনতম ছবির নিদর্শন কোনটি? উ: পাল যুগের ‘অষ্টাসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা’।

‘অষ্টাসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা’ চিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কি? উ: এটি তালপাতায় অঙ্কিত চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধগ্রন্থ।

‘অষ্টাসাহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা’ কোন রাজার শাসনকালে রচিত? উ: পাল রাজা মহীপালের সময়।

কৈবর্ত বলতে কাদের বোঝায়? উ: কৈবর্ত বলতে ‘জেলেদের’ বোাঝায়। মূলত, কৃষক, জেলে, শ্রমজীবী সাধারণ মানুষদেরকে কৈবর্ত বলে।

‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ এর নেতা কে ছিল? এই বিদ্রোহ কার শাসনামলে সংঘটিত হয়? উ: উক্ত বিদ্রোহের নেতা ছিল ‘দিব্যক’। রাজা দ্বিতীয় মহীপালের সময় এই বিদ্রোহ ঘটে।

পাল বংশের শেষ রাজা কে ছিলেন? উ: মদনপাল। রাজা মদনপালের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ধ্যাকর নন্দী ‘রামচরিতম’ রচনা করে।

খড়গ বংশের রাজ্য কোথায় অবস্থিত? উ: দক্ষিণ পূর্ব বাংলায়। খড়গ বংশের রাজধানী ‘কর্মান্ত বসাক’।

সেন রাজাদের পিতৃভূমি বা আদিনিবাস কোথায়? উ: দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক।

সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? সেন বংশের প্রথম রাজা কে ছিলেন?  উ: সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেন। কিন্তু প্রথম রাজা বলা হয়  মহারাজা ‘হেমন্ত সেন’কে।

সেন বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন এবং কেন? উ: সেন বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ‘বিজয় সেন’। কেননা তিনি প্রথম নিজেকে সামন্ত রাজা থেকে স্বাধীন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

রাজা বিজয়সেনের রাজধানী দুইটি কোথায় ছিল? উ: ১)প্রথম রাজধানী ছিল হুগলীর ত্রিবেণীর বিজয়পুর ও ২) মুন্সিগঞ্জের বিজয়পুর।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

‘কৌলীন্য প্রথা’ এর প্রবর্তক কে ছিলেন? উ: বল্লাল সেন।

‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভূতসাগর’ রচনা করেন কে? উ: রাজা বল্লাল সেন। তবে অদ্ভূতসাগরের শেষ অংশ সমাপ্ত করেন বল্লাল সেনের পুত্র ‘ লক্ষন সেন’।

সেন বংশের শেষ রাজা ও শেষ শাসনকর্তা কে ছিলেন? উ: সেন বংশের শেষ রাজা ছিল লক্ষন সেন। তবে শেষ শাসনকর্তা ছিল তার পুত্র ‘কেশব সেন’।

রাজা লক্ষন সেন মৃত্যুবরন করেন কত সালে? উ: ১২০৬ সালে।

রাজা লক্ষন সেনের পুত্র কতজন? উ: ২ জন। ১) কেশব সেন ২) বিশ্বরূপ সেন।

উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

বখতিয়ার খলজি নদীয়া জয় করে কত খ্রিস্টাব্দে? উ: ১২০৪ খ্রিঃ।

বখতিয়ার খলজি কোথাকার নাগরিক ছিলেন? উ: আফগানিস্তানের নাগরিক তবে জাতিতে তুর্কি।

বখতিয়ার খলজির গৌড়/ লক্ষনাবতী/ লখনৌতি অধিকার করেন কত সালে? উ: ১২০৪ সালে। মতান্তরে ১২০৫। ( ত্রয়োদশ শতাব্দীতে)

ভারতবর্ষে প্রথম মুসলিম বা আরব অভিযান কত সালে এবং কে সংঘটিত করেন? উ: ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে ‘মুহম্মদ বিন কাসিম’ প্রথম মুসলিম হিসেবে ভারতে অভিযান চালান।

মুহম্মদ বিন কাসিম কার বিরুদ্ধে অভিযান চালান? উ: সিন্ধু ‘রাজা দাহিরের’ বিরুদ্ধে। এবং মুহম্মদ বিন কাসিম প্রথম সিন্ধুর ‘দেবল’ শহরে উপস্থিত হন।

গজনীর সুলতান মাহমুদ কতবার উপমহাদেশে অভিযান করেন? উ: ১০০০ থেকে ১০২৭ পর্যন্ত মোট ১৭ বার।

সুলতান মাহমুদ এর জয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কোনটি? উ: গুজরাটের প্রাচীন দেবমন্দির ‘সোমনাথ মন্দির’ জয়।

ত্বরাইনের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে? এবং জয়ী ও পরাজিত হয় কে? উ: ১১৯১ খ্রিঃ। জয়লাভ করেন ‘পৃথ্বীরাজ চৌহান’ এবং পরাজিত হন ‘মুহম্মদ ঘুরী’।

ত্বরাইনের ২য় যুদ্ধ কাদের মধ্যে হয়? এবং জয়লাভ করেন কে? উ: ১১৯২ খ্রিঃ। জয়লাভ করেন ‘মুহম্মদ ঘুরী’ এবং পৃথ্বীরাজ চৌহান নিহত হন।

ভারতবর্ষে সর্ব প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে? উ: মুহম্মদ ঘুরী। তবে ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন ‘ কুতুবউদ্দিন আইবেক ‘।

সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক কে ছিলেন? উ: সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক প্রথম জীবনে মুহম্মদ ঘুরীর একজন ক্রীতদাস ও পরবর্তীতে সেনাপতি ছিলেন। কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লিতে রাজধানী স্থাপন করেন।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কে? উ: কুতুবউদ্দিন আইবেক

দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে? উ: শামসুদ্দিন ইলত্যুতমিশ।

কুতুবউদ্দিন আইবেকের পরম দানশীলতার জন্য তাকে কি নামে ডাকা হতো? উ: লাখবক্স।

ভারতে প্রথম মুদ্রা প্রবর্তন করেন কে? উ:শামসুদ্দিন ইলত্যুতমিশ।

শামসুদ্দিন ইলত্যুতমিশের উপাধি কি ছিল? উ: সুলতান-ই-আজম।

‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা ‘চল্লিশ চক্র’ বলতে কি বোঝায়? উ: শামসুদ্দিন ইলত্যুতমিশ ৪০ জন তুর্কী ক্রীতদাসকে নিয়ে একটি দল গঠন করেন এই দলটি ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা ‘চল্লিশ চক্র নামে পরিচিত।

কুতুব মিনারের কাজ শেষ হয় কার শাসনামলে? উ: ইলত্যুতমিশ।

‘মহান শাসক’ কাকে বলা হতো? উ: সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন কে।

‘রক্তপাত ও কঠোর নীতি’ (Blood and Iron Policy) কার শাসন নীতি? উ: গিয়াসউদ্দিন বলবন।

‘বুলবুলে হিন্দ’ (ভারতের তোতাপাখি) বলা হয় কাকে?  উ: আমীর খসরু কে। তিনি গিয়াসউদ্দিন বলবনের দরবারের সদস্য ছিলেন।

প্রথম মুসলিম শাসক হিসেবে দাক্ষিণাত্য (দক্ষিণ ভারত) জয় করেন কে? উ: ‘আলাউদ্দিন খলজি’ ও তার সেনাপতি ‘মালিক কাফুর’।

মূল্য ও বাজার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কে? উ: আলাউদ্দীন খলজি।

‘ আমিই রাষ্ট্র ‘ ঘোষণা করে ভারতবর্ষের কোন শাসক? উ: আলাউদ্দিন খলজি।

দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন কে? উ: মুহম্মদ বিন তুঘলক।

মুহম্মদ বিন তুঘলক সোনা ও রৌপ্য মুদ্রার পরিবর্তে কিসের মুদ্রার প্রবর্তন করেন? উ: তামার মুদ্রার প্রবর্তন করেন।

কৃষি উন্নয়নের জন্য ‘দিওয়ান-ই-কোহী’ নামে ‘কৃষি বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করেন কে? উ: মুহম্মদ বিন তুঘলক। এই ‘দিওয়ান-ই-কোহী’ র প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন ‘আমীর কোহী’।

তৈমুর লঙ কত সালে মাহমুদ শাহকে পরাজিত করে দিল্লী অধিকার করেন? উ: ১৩৯৮ সালে।

ইব্রাহিম লোদী কে ছিলেন? উ: দিল্লি সালতানাতের সর্বশেষ সুলতান।

ভারতবর্ষের তথা দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করা প্রথম নারী শাসক কে? উ: রাজিয়া সুলতানা। রাজা শামসুদ্দিন ইলত্যুতমিশের কন্যা।